জাপানের আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। দেশটির অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় (এমইটিআই) জানিয়েছে, উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে চাহিদা স্থবির হয়ে যাওয়ায় ধাতবটির উৎপাদন কমে যাবে। খবর রয়টার্স।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইস্পাত শিল্পে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ জাপানে উৎপাদন আগামী মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে ৮ কোটি ৩৭ লাখ ২০ হাজার টন পৌঁছতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কম। এটি একই সঙ্গে ২০২০ অর্থবছরের পর সর্বনিম্ন। ওই বছর কভিড-১৯ মহামারীর কারণে চাহিদায় ধস নেমেছিল।
এমইটিআইয়ের ধাতব শিল্প বিভাগের পরিচালক মানাবু নাবেশিমা বলেন, ‘গাড়ি নির্মাতা ও নির্মাণ খাতে চাহিদা কমায় ইস্পাতের চাহিদা সম্ভবত কম থাকবে।’
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন ২ কোটি ৯ লাখ ৩০ হাজার টনে পৌঁছতে পারে, যা এক বছর আগে ছিল ২ কোটি ১৪ লাখ ৫০ হাজার টন। এটি একই সঙ্গে চলতি প্রান্তিকের তুলনায়ও দশমিক ১ শতাংশ কম হবে।
একই সময়ে রফতানিসহ ইস্পাত পণ্যের চাহিদা এক বছর আগের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ কোটি ৯০ লাখ ৯ হাজার টনে পৌঁছবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ সময় রফতানি দশমিক ৪ শতাংশ কমতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
জাপান আয়রন অ্যান্ড স্টিল ফেডারেশন জানিয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে দেশটির অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন চলতি বছরের তুলনায় সামান্য বাড়তে পারে। তবে ফেডারেশনের চেয়ারম্যান তাদাশি ইমাই সরকারকে চীন থেকে ইস্পাত আমদানি বৃদ্ধি কমাতে দ্রুত বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এটি দেশীয় সরবরাহ চেইন রক্ষায় সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি।
সম্ভাব্য বাণিজ্যিক পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাবেশিমা বলেন, ‘আমরা নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য করতে পারব না। তবে আমরা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য নিয়ম মেনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারি।’
জাপানি ইস্পাত নির্মাতারাও চীনের ক্রমবর্ধমান ইস্পাত রফতানি নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শিল্পসংশ্লিষ্ট ও বিশ্লেষকদের মতে, চীনা ইস্পাত নির্মাতারা এরই মধ্যে দশকের সর্বোচ্চর কাছাকাছি রফতানি করছে। ২০২৫ সালেও রফতানি ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ চীনের অতিরিক্ত উৎপাদনক্ষমতা। এটি চলমান বাণিজ্যিক উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।